Friday, July 19, 2024
HomeRecent Live BanglaHEALTH TIPS BANGLAতারুণ্য ধরে রাখতে হলে করতে হবে যেসব কাজ

তারুণ্য ধরে রাখতে হলে করতে হবে যেসব কাজ

তারুণ্য ধরে রাখতে হলে যা করতে হবে: মধ্যবয়সে অনেকেই বয়স বেড়ে যাওয়ায় এবং এই সংক্রান্ত নানা জটিলতা নিয়ে উদ্বেগে থাকেন। প্রকৃতির নিয়মে বয়স বাড়বে, তবে আপনি বুড়ি হয়ে যাবেন কি যাবেন না সেটি নিয়ন্ত্রণ কিন্তু অনেক খানি আপনার হাতেই আছে। অনেকেই মনে করেন, কে কত বছর বাঁচবে তা নির্ভর করে জীনের ওপর। কিন্তু গবেষণা বলছে, এর 70 থেকে 80 শতাংশ পরিবেশের উপর নির্ভর করে, যেটি আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। বয়স কালেও সুস্থ না হয়ে, হাসিখুশি ও স্বাধীনভাবে কিভাবে জীবন কাটানো যায় বিভিন্ন গবেষণার আলোকে সেটি আজকে আমরা আপনাদের সাথে ব্যাখ্যা করব। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

বন্ধুত্বঃ

বয়স্কদের রোগ বিশেষজ্ঞ রোজএবং গেনির মতে, সুস্থভাবে দীর্ঘ সময় বাঁচতে বন্ধ থাকা খুব জরুরী। দীর্ঘজীবী হওয়ার জন্য ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং ধূমপান পরিহার যেমন জরুরি, বন্ধুত্বের গুরুত্ব ঠিক তেমনি। কারণ ভালো বন্ধু মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, এতে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, তার প্রভাবে আয়ু বাড়ে।

রিসেন্ট লাইভ খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল

কিভাবে ভালো বন্ধু বানাবেন? সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে মনোবিজ্ঞানী জুলিয়ান হল্ড স্ট্যান্ড দুটি উপায়ে কথা বলেছেন, প্রথমটা হল পরিবার বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সাথে আপনার ইতোমধ্যে যে সম্পর্ক আছে তা শক্তিশালী করতে পারেন। এজন্য তাদের সাথে বেশি বেশি সময় কাটান ও যোগাযোগ বাড়ান। এবং দ্বিতীয় উপায় হল, আপনার এমন বিদ্যমান সম্পর্ক না থাকে, তবে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এ জন্য বাড়তি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। আপনার সাথে মিলে যায় এমন মানুষ খুঁজে পেতে অনেক মানুষকে যাচাই করতে হতে পারে। তাই আপনি যদি অল্প সময় ভালো বন্ধু খুঁজে না পান তাহলে ধৈর্য হারাবেন না। মনে রাখবেন সেরা বন্ধু রাতারাতি হয় না এবং সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় লাগে। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

হাসি এবং আসাবাদীঃ

একদম ছোট শিশুরা গড়ে চার শত বার হাসে। কিন্তু বয়স যত বাড়ে, হাসির পরিমাণ তত কমে। হাসলে আমাদের মানসিক চাপ কমে যায়, সেটিই নার্ভাস সিস্টেম সংক্রান্ত চাপ হোক বা হরমোন সংক্রান্ত চাপ হোক। গবেষণা দেখাগিয়েছে স্ট্রেস বা উদ্বেগ ভুগছেন এমন নারীদের হূদরোগ, স্ট্রোক বা ফুসফুসের ক্যান্সারে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা দুইগুণ বেশি। এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে তিনগুণ বেশি। কিন্তু হাসি বা আশাবাদী মনোভাব মানসিক চাপ কমায়, এতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

গবেষণা বলছে, হতাশাবাদী ব্যক্তিদের চেয়ে আশাবাদী মানুষের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি 42% কম। এক গবেষনায় দেখা গিয়েছে, সুখী মানুষের অকাল মৃত্যুর হার 3 দশমিক 7 শতাংশ কম। সুখী লোকেরা কম সুখীদের তুলনায় 18 শতাংশ বেশি বাঁচতে পারেন। তাই পরিস্থিতি যেমনই হোক, আপনার বয়স যতই হোক, হাসুন। হাসির চেয়ে ভাল সুখী নেই। এটা আপনাকে দীর্ঘজীবী করবে। ইতিবাচক ও আশাবাদী থাকার একটি উপায় হলো প্রার্থনা করা।

তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

জাপানের ওকিনাওয়া শহরে শতবর্ষে দের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যারা ধর্মে বিশ্বাস রাখেন, এবং যার যার ধর্ম পালন করেন তারা অবিশ্বাসীদের চাইতে এক থেকে পাঁচ বছর বেশি বাঁচেন। তারা এই জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার থাকেন। যেকোনো বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে তারা সৃষ্টিকর্তার কথা ভেবে সান্তনা পায়। তবে যারা ধর্মে বিশ্বাস রাখেন না, তারা ধ্যান করা, বিভিন্ন সামাজিক ক্লাবে যোগ দেয়ার মাধ্যমে , বেশি দিন বাঁচার স্বাদ নিতে পারেন। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

ঘুমঃ

আপনি যদি মধ্য বয়সে এসে পৌঁছান, তাহলে প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া ভীষণ জরুরী। ৭ থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম হলো আদর্শ। এর চেয়ে কম ঘুম বা এর চেয়ে বেশি ঘুম আমাদের মস্তিষ্ক ও হার্টের কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ প্রতিরাতে 5 থেকে 7 ঘন্টার কম ঘুমালে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি১২ শতাংশ বাড়ে। যেখানে কিনা প্রতিরাতে 8 থেকে 9 ঘণ্টার বেশি ঘুমালে আপনার আইয়ুব 38 শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ঘুমের সময় আমাদের শরীর ইন্ট্রিগেন্ট নামে এক ধরনের আঠালো পদার্থ নিঃসরণ করে।এ এন্ট্রি গ্রেন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে t-cell কে সাহায্য করে।

টি সেল হচ্ছে মানুষের রক্তের মধ্যে থাকে, এমন একটি রোগ প্রতিরোধী কোষ। এর প্রধান কাজ হল মানবদেহে কোন প্যাথোজেন অর্থাৎ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস আছে কিনা সেটা কে খুঁজে বের করে প্রতিরোধ করা। কোন সংক্রমিত কোষ ঢুকে পড়লে, ইন্টিগ্রেট তাদের চিহ্নিত করে মেরে ফেলে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ঘুম আয়ু বাড়াতে কতটা সাহায্য করে। এটা ঠিক যে বয়সের সাথে সাথে ঘুম বিপর্যস্ত হয়ে যায়। কিন্তু ঘুমের সাইকেল ঠিক করার নানা পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো অনুসরণ করে ঘুমের ও ঠিক করুন। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

ঠান্ডা পানিতে গোসলঃ

প্রতিদিন সকালে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল কিংবা ঠান্ডা পানিতে সাঁতার কাটা হরমাইসেস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরের কোষে বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দেয়। এতে ভালো কোষের সংখ্যা বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ডিপ্রেশনের ঝুঁকি কমে, মন প্রশান্ত ও ফুরফুরে থাকে, যা দীর্ঘায়ুর অন্যতম নির্দেশক। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

ব্যায়ামঃ

আয়ু বাড়াতে নিয়মিত ব্যায়াম কিংবা কায়িক পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আপনাকে মূলত এমন ব্যায়াম করতে হবে, যা আপনার হৃদস্পন্দন এবং শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বাড়াবে। এতে মূলত হৃদপিন্ড, ফুসফুস ও পেশী ক্ষমতা বাড়ে। ফলে ডায়াবেটিস স্থূলতা থেকে দূরে থাকা যায় এবং আয়ু বাড়ে। বৃটেনের এক্সারসাইজ ক্লিনিক্যাল ফিজিওলজিস্ট মিল্টন জানিয়েছেন, যারা মধ্যবয়সে পৌঁছেছেন, তাদের উচিত নিয়মিত হার্ট, ফুসফুস ও পেশি সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যায়াম করা। সেটি হতে পারে নিয়মিত দ্রুত হাঁটা এবং ভারোত্তোলন। কার জন্য কতটুকু মাত্রার ব্যায়াম দরকার সেটি একজন ফিটনেস বিশেষজ্ঞ বলতে পারবেন।

তবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির উচিত হবে সপ্তাহে গড়ে 150 মিনিট ব্যায়াম করা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে মাত্র 75 মিনিট ব্যায়াম করেছেন অর্থাৎ প্রতিদিন হয়তো দশ মিনিটের কিছু বেশি, তাদের আয়ু ব্যায়াম না করা দের তুলনায় এক বছর 8 মাস বেড়েছে এবং যারা সপ্তাহে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা ব্যায়াম করেছেন, তাদের আয়ু অন্তত চার বছর বেড়েছে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, টানা দুই সপ্তাহের ব্যায়ামে হার্ট এর টিস্যু শক্তিশালী হয়, ফুসফুস বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে, রক্তনালীগুলো আগের চেয়ে বেশি ইলাস্টিকের মত মজবুত হয় এবং নতুন লোহিত রক্তকণিকা পেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

একটি ফিটনেস ওয়াচ এর মাধ্যমে ভিওটু ম্যাক্স, হান্ড্রেড এবং স্টেট কাউন্টেট এর মাধ্যমে নিজের উন্নতি পরখ করতে পারেন। কিন্তু আপনার ব্যায়াম এর সুফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে যদি আপনি টানা এক বা দুই ঘন্টা বসে থাকেন। এক্ষেত্রে বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন এন্ড এ ইজিং এর পরিচালক বলেন, আধাঘন্টা পর পর বসা থেকে উঠে হাঁটা অথবা চেয়ারে বসে দুহাত ক্রস করে উঠবস করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

খাবারঃ

কথায় আছে, আমরা সেটাই যা আমরা খাই। বুঝতেই পারছেন আয়ুর সাথে খাবারের যোকটা কত ঘনিষ্ট। নর্মের ইউনিভার্সিটির ডক্টরস লার্স ফার্নেস মধ্যবয়সীদের নিয়মিত ডায়েট করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং দায়িত্বে রাখতে বলেছেন শস্য, বাদাম, শাকসবজি, ফল এবং পরিমিত পরিমাণে মাছ। সেইসাথে বন্ধ করতে বলেছেন চিনিযুক্ত পানীয় এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া। মধ্যবয়সে খাদ্যাভ্যাসের এ পরিবর্তন তাদের গড়াই আগের তুলনায় 10 বছর বাড়াতে পারে। এমনকি যাদের বয়স 70 বছরের বেশি তাদের আয়ু আরো 5 বছর বাড়তে পারে, যদি তারা পরিমিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে শুরু করেন। এ ডায়েট একেকজনের জন্য একেকরকম। তাই একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শে নিজের ডায়েট চার্ট তৈরি করে সেটি মেনে চলুন। তারুণ্য ধরে রাখার উপায়

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular