Friday, July 19, 2024
HomeHEALTH & FITNESSদেশি ফল: আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা ও দেশি কোন ফল কতটুকু খাবেন?

দেশি ফল: আম, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা ও দেশি কোন ফল কতটুকু খাবেন?

এখন ফলের মৌসুম চলছে। অনেকেই নিশ্চয়ই অতি উৎসাহে ফল খাচ্ছেন। কোন ফলে কি উপকার? কতটা খেলে ক্ষতিকর হতে পারে? এসব বিষয়ে আজ আপনাদের জানানোর চেষ্টা করবো।

বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালীন কয়েকটি ফলের বিষয়ে জেনে নেয়া যাক

আমঃ

বাংলাদেশ এপ্রিল মাস থেকেই কাঁচা আম পাওয়া যায়। তবে পাকা আম আসতে শুরু করে মে মাস থেকে। স্বাদ,পুষ্টি ও গন্ধে জনপ্রিয় একটি ফল আম। বাংলাদেশের কৃষি তথ্য সার্ভিসের বর্ণনা অনুযায়ী, আয়রন ও সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণে বেশ কার্যকরী আমল রক্তে ক্ষতিকারক কলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ডায়াবেটিস এর সঙ্গে লড়াই করে। ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে। আমে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে প্রোটিন যা জীবাণু থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

আমে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। চোখের চারপাশের শুষ্ক ভাবও দূর করে। পাকা আমে কাচা আমের তুলনায় শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। কাঁচা আম দেহের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার বলছেন, পাকা আমে গ্লুকোজ বেশি থাকার কারণে অল্প খেলেই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সমস্যা হতে পারে। কিন্তু কাঁচা আম খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কোন সমস্যার কারণ নয়। স্ট্রোকের রোগী ও নিউরোলজিক্যাল বিভিন্ন সমস্যা থাকলে তাদের জন্য কাঁচা আম খুব উপকারী।

কাঁঠালঃ

পুষ্টিবিদেরা বলছেন, বাংলাদেশের কাঁঠাল গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত। কাঁচা থেকে শুরু করে সব ভাবে খাওয়া যায় এ ফলটি। অর্থাৎ এর প্রতিটি অংশই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাঁঠালে শর্করার পরিমাণ বেশি। আর যেহেতু শর্করা বেশি এনার্জি লেভেলটাকে থেকে ভালো রাখতে পারে। এতে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিম,ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন, সোডিয়াম, জিংক এবং নায়াসিন বিভিন্ন প্রকার পুষ্টি উপাদান।

কাঁচা কাঁঠালের ফাইবারের পরিমাণ পাকা কাঁঠালের তুলনায় বেশ কয়েক গুণ বেশি। তাই ডায়াবেটিক মানুষের জন্য কাঁচা কাঁঠাল উপকারী। তবে কাঁঠাল বেশি খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কিন্তু থাকে কারণ এতে শর্করা অনেক বেশি পরিমাণে থাকে। পুষ্টিবিদ্যা শারমিন আক্তার বলেছেন, ভাত কমিয়ে কাঁঠাল খেলে লাভ হয়তো আছে, নয়তো হিতে বিপরীত হতে পারে। এ কাঁঠাল কারো কারো ক্ষেত্রে হজম বৃদ্ধি করে, আবার উল্টোটাও দেখা যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে পেট ফুলে যায়, হজমে সমস্যাও হয়।

লিচুঃ

লিচুতে রয়েছে খাদ্যশক্তি, শর্করা, আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সি। এটা টিউমার রোধে বেশ ভূমিকা রাখে। তবে লিচু যাতে না খাওয়া হয় সেদিকেও নজর দিতে বলেন পুষ্টিবিদেরা। বেশি লিচু খেলে বদহজম হতে পারে। এ ছাড়া খালি পেটে লিচু খাওয়াবো কিন্তু ঠিক নয়। ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন উঠে এসেছে, লিচুতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া নামে একটি রাসায়নিক থাকে, যা শরীরের শর্করা তৈরীর রোধ করে। খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খেয়ে ফেললে শিশুদের শরীরে শর্করার পরিমাণ অত্যন্ত কম এ গিয়ে তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জামঃ

শরীরের হারকে মজবুত করে। ডায়রিয়া ও আলসার নিরাময়ে ভূমিকা রাখেন। জাম ত্বক টানটান করতে, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে পারে আর ডিটক্সিফাই হিসেবেও কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, জামের নির্যাস ক্যান্সার সৃষ্টিকারী ফ্রিরেডিকেল এর কাজ এবং বিতরণে বাধা দেয়। অরুচি ভাব ও বমিভাব নিরাময় জামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, 200 মিলিমিটার কাপ পরিমাণ জাম কেও নির্দ্বিধায় খেতে পারেন। তবে আধা পাকা জাম খাওয়া উচিত নয়। খালি পেটে জাম খেলে কারো কারো ক্ষেত্রে এসিডিটির সমস্যা হতে পারে। এছাড়া জাম খাওয়ার পর দুধ খেতেও মানা করা হয়। এতে বদহজমের সমস্যা হতে পারে বলে মত দেন পুষ্টিবিদেরা।

পেয়ারাঃ

পেয়ারা

বাংলাদেশ এখন সারা বছর ধরেই পেয়ারা পাওয়া যায়। তবে কাজী পেয়ারা থেকে দেশী পেয়ারার পুষ্টিগুণে অসাধারণ বলেছেন পুষ্টিবিদ্যা শারমিন আক্তার। বেশিরভাগ মানুষের জন্য এই ফলটি উপকারী। তবে পেয়ারার বিচি কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি করতে পারে। অনেকের অ্যাসিডিটি ও হতে পারে পেয়ারা খেলে।

তরমুজঃ

তরমুজ

তরমুজে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্ট্রেস কমিয়ে দেয়। এছাড়া প্রোস্টেট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার, ফুসফুসের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। তরমুজ প্রচুর পানি থাকে, তাই কিডনি রোগীরা এই ফল খেতে পারেন না। আর পানি আছে বলেই যে একটু পরপর তরমুজ খাবেন কেউ সেটাও শরীরের জন্য উপকারী নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে তরমুজ খেলে বদহজম ও এসিডিটি তৈরি হতে পারে।

আমরা, জামরুল, বেল, লটকনসহ বাজারে এখন বহু দেশী ফল রয়েছে। যেগুলো বেশ উপকারী ফল। পুষ্টিবিদরা তাই বলে আসছেন, ফল খাওয়া ছেড়ে দিলে চলবে না, আবার বেশিও খাওয়া যাবে না। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় সঠিক সময়ে ফলমূল খাওয়া উচিত।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular