Friday, July 19, 2024
HomeRecent Live BanglaHEALTH TIPS BANGLAডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়:  আমাদের নিত্য ব্যবহার্য  শব্দ গুলোর মধ্যে দিন দিন বেশ কমন হয়ে পড়ছে ডায়াবেটিস শব্দটি। এ ডায়াবেটিকস বর্তমানে মহামারি আকার দেখা দিয়েছে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে  আমাদের আশেপাশের অনেকেরই এ ডায়াবেটিকস আছে।

এমনকি ১৯৮০ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল ১০৮ (১০ কোটি ৮০ লাখ) মিলিয়ন কিন্তু বর্তমানে এই রুগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২২ (৪২ কোটি ২০ লাখ)। ইটা বুজার কোনো বিকল্প নাই সামনে এর পরিস্থিতি আরো কত ভয়াবহ হতে চলেছে।

ইতিমধ্যেই আমরা জানি যে, একটি বিপাকীয় প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট রোগ হলো এই ডায়াবেটিস। শরীরে পর্যাপ্তপরিমান ইনসুলিন উৎপাদনে অক্ষম ও ইনসুলিন প্রত্যাখ্যান করে এই ডায়াবেটিসের কারণে। ফলে অস্বাভাবিক সুগারের মাত্রা বেড়ে রক্তের মধ্যে।

শরীরের রক্তে সুগার বা ডায়াবেটিসের পরিমান বেড়ে যায় তখন ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হলো এই ডায়াবেটিস রোগ হলে কখনো পুরোপুরি এই রোগ ভালো হয় না। কিন্তু চাইলে এর লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

জীবনে কখনো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হওয়ায় জন্য কিছু প্রমাণিত উপায় রয়েছে সেগুলো নিয়মিতভাবে মেনে চলতে হবে। তবে আপনার পরিবারে যদি কারো ডায়াবেটিস না থাকে।

যদি আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু প্রমাণিত উপায় রয়েছে সেগুলো নিয়মিতভাবে মেনে চলতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

সহজ কিছু টিপস আছে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণের জন্য। নিজেরাই শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত এগুলো মেনে চলতে হবে।

১. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা

ডায়াবেটিস সহ নানা ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকার জন্য দেহের ওজন নিয়ন্ত্রিত রাখাতে হবে স্বাস্থ্যকর মাত্রায়। এবং ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে স্বাস্থ্যকরভাবে।

২. সালাদ খান

এক বাটি করে প্রতিদিন সালাদ খান। সালাদের মধ্যে থাকবে লেটুস, শসা, টমেটো, গাজর, রসুন এবং পেঁয়াজ ইত্যাদি। এই সালাদ খাওয়া যেতে পারে প্রতিদিন দুপুরে বা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এবং এক চা চামচ ভিনেগারও সালাদে মধ্যে যুক্ত করতে পারেন। রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে ভিনেগার সহায়তা করে। আর ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে অথবা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কোনো বিকল্প নেই।

৩. প্রচুর হাঁটাহাঁটি করুন

হাঁটাহাঁটি হলো সেরা ব্যায়ামগুলোর একটি যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক হিসাবে কাজ করে। আপনার দেহে ইনসুলিনের মাত্রাকেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে অন্তত প্রতিদিন আপনি ৪০মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। ফলে আপনার শরীরে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকিও কমে আসবে।

৪. কফি পান করুন

অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ২৯% টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কুমাতে প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ কফি পান করুন। কিন্তু অবশ্যই কফি পান করতে হবে চিনি ছাড়া। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কাজ করে যা কফিতে থাকে।

৫. পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য খান

সকালের নাস্তা করুন পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্য দিয়ে যেমন ভুট্টা,বার্লি,ব্রাউন রাইস,ওটমিল, বাজরা ইত্যাদি। আঁশ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে। পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্যের মধ্যে আঁশ রয়েছে। ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ঝুঁকিও কমে। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি রোগ থেকেও বাঁচাবে পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য।

৬. ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন

আজকাল নানা ধরনের ফাস্টফুড চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। এই সকল ফাস্টফুড খাবার দেখলে লোভ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থুলতা, হৃদরোগ এবং হজমের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে পিজ্জা, ফ্রাইস, বার্গার এর মতো ফাস্ট এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খেলে। এসকল খাবার শরীরে ক্ষতিকরভাবে ইনসুলিনের মাত্রা পরিবর্তন করে দিতে পারে। যা থেকে শরীরে ডায়াবেটিসও হতে পারে।

৭. স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন

অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে হতে পারে মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে ভয়াবহ
ক্যান্সারও। সুতরাং আপনি যদি তীব্র মানসিক চাপে থাকেন তাহলে রিল্যাক্স করার জন্য যোগ ব্যায়াম করে এবং নানা কৌশলে স্ট্রেস কমান। এতে আপনার দেহে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ঝুঁকি এবং কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

৮. দারুচিনি খান

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৪৮% কমাতে পাউডার আকারে নিয়মিত দারুচিনি তেল খাদ্যতালিকায় রাখুন। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রাকৃতিক সক্ষমতা আছে এই দারুচিনি তেলে যা ট্রাইগ্লিসারাইড এবং অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। আর প্রাকৃতিক ভাবে দুটি উপাদান(ট্রাইগ্লিসারাইড এবং অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরল) কমাতে পারলে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধের ঝুঁকিও কমে আসে।

৯. ধুমপান ত্যাগ করুন

নানা ধরনের মারাত্মক রোগের আরেকটি কারণ হলো স্ট্রেসের মতোই ধুমপান। ধুমপানের কারণে ফুসফুস ক্যান্সার হয় এবং পাশাপাশি ডায়াবেটিসও হয়ে থাকে। সুতরাং আজই ধুমপান ছেড়ে দিন যদি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে চান।

১০.সকালে নাশতা করুন

অনেক দেরিতে সকালের নাশতা করে, অনেকে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠে এবং আবার অনেকে নাশতা করেই না। এই অভ্যাস শরীরের জন্য খারাপ, যার ফলে আপনার শরীরে ডায়াবেটিসের মতো রোগ হতে পারে। তাই প্রতিদিন সকালের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নাশতা রার চেষ্টা করুন।

১১. চিকিৎসকের পরামর্শে চলুন

লিপিড, রক্তের গ্লুকোজ, ওজন ও রক্তচাপ অবশ্যই লক্ষ্যমাত্রায় রাখতে হবে। যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে নিয়মিত পরীক্ষা করুন। পরীক্ষা করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিন। (যা শুধু আপনার জন্য প্রযোজ্য)বিজ্ঞানসম্মত উপদেশ মেনে চলুন, খাদ্য গ্রহণ, ওষুধ, ব্যায়ামের মাধ্যমে তথা সার্বিক জীবনযাপন–সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট উপদেশ মেনে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শে জীবনযাপন করলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

প্রশ্ন : কখন ডায়াবেটিসে একজন মানুষকে আক্রান্ত বলা হয়?

উত্তর : মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয় এই ডায়াবেটিস রোগকে। এ ডায়াবেটিস অগ্ন্যাশয় থেকে কোনো ইনসুলিন বের হয় না। যার লক্ষণ: গলা শুকিয়ে আসা, বেশি প্রস্রাব করা, ওজন কমে যাওয়া। ডায়াবেটিসে দ্বিতীয় ধরনটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা। যার লক্ষণ: এই ডায়াবেটিস মূলত প্রথমটির মতো না। এই রুগীরা কোনো কারণে স্বাস্থ্য-পরীক্ষা করতে এসে দেখেন তাদের ডায়াবেটিস হয়েছে। এই ডায়াবেটিস মূলত পারিবারীক ভাবে আসে। বিশেষ করে সন্তানেরও হওয়ার আশঙ্কা থাকে জোড়েই মা-বাবার থাকে। ডায়াবেটিস হতে পারে যদি উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন না থাকে। কোলেস্টেরল বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

প্রশ্ন : কীভাবে ডায়াবেটিসের পরীক্ষা করাতে হয়?

উত্তর : তিনটি স্টেজে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে পারবে ডায়াবেটিস আছে কি না। প্রথমে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করতে হবে খালি পেটে। আট ঘণ্টা খালি পেটে থেকে সকালে ঘুম থেকে উঠে পরীক্ষা করতে হবে। খালি পেটে পরীক্ষায় শর্করার পরিমাণ ৭ অথবা ৭ মাত্রার ওপরে থাকে তখন বুঝতে হবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। দ্বিতীয় পরীক্ষা রতে হবে খাবারের দুই ঘণ্টা পর। পরীক্ষায় শর্করার পরিমাণ ১১ দশমিক ১ অথবা এর বেশি থাকে তখন বুঝতে হবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

তবে দুই পরীক্ষায় ফলাফল শর্করার পরিমাণ কম হয় ডায়াবেটিস নেই এ কথা বলা যাবে না। এই জন্য তৃতীয় পরীক্ষা করতে হবে তা হলো ১২০ দিনের রক্তে শর্করার গড় পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষাটি করা হয় ক্তের লোহিত কণিকা থেকে। পরীক্ষায় শর্করার পরিমাণ ৬ দশমিক ৫ বা এর বেশি থাকে তখন বুঝতে হবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।

প্রশ্ন : এই রোগের চিকিৎসা এবং ওষুধ সংযোজিত হয়েছে?

উত্তর : ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য অথবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১. খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ২.ব্যায়াম ৩. ওষুধ। প্রাথমিক পর্যায়ে যারা আছেন, তাঁদের জন্য খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যায়াম মাধ্যমে এই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। ব্যায়ামের মধ্যে রয়েছে প্রতি সপ্তাহে হাঁটতে হবে ১৫০ মিনিট অবশ্যই দ্রুত হাঁটতে হবে। সেটি ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হতে পারে এবং ২০ মিনিট করে সপ্তাহে সাত দিন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular