Sunday, July 21, 2024
HomeHEALTH & FITNESSখাদ্য: বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব খাবার ক্ষতিকর, এমনকি যে সব খাবার আপনার মৃত্যুর...

খাদ্য: বাংলাদেশে প্রচলিত যেসব খাবার ক্ষতিকর, এমনকি যে সব খাবার আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে

খাদ্য: বাংলাদেশের মানুষ চাল, মাছ, মাংস, শাক সবজি মিলিয়ে কয়েক হাজার ধরনের খাবার খেয়ে থাকেন। তবে এসবের মধ্যে বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যা অনেক সময় মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে এসব খাবারের অনেকগুলোই নিরাপদ মনে হলেও, বিশেষ কার্টুনে বা বিশেষ অবস্থায় এগুলো বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। হয়ে উঠতে পারে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। আবার কোন কোন খাদ্য রয়েছে যা তাৎক্ষণিকভাবে মানুষের মৃত্যুও ঘটাতে পারে। কোন কোন খাবারের কারণে হওয়া ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝা না গেলেও তার দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের ক্ষতি করে।

যেসব খাদ্য অবস্থাভেদে আপনার শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে এরকম কয়েকটি খাবার সম্পর্কে আজ জেনে নেয়া যাক।

পটকা মাছঃ

বাংলাদেশ, চীন, জাপান, কোরিয়া সহ বেশকিছু দেশের মানুষের কাছে পটকা মাছ বা পাফার ফিশ জনপ্রিয় একটি মাছ। কিন্তু এই মাছটি ঠিকভাবে প্রসেস করা সম্ভব না হলে সেটি কয়েক ঘন্টার মধ্যে মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এর শরীরে থাকে বিষাক্ত নিউরো টক্সিন, যা সায়নাইড এর তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে। এমনিতে মাছটি হয়তো ক্ষতিকর নয়, কিন্তু বিষাক্ত অংশটি কোন ভাবে মাছের শরীরের রয়ে গেলে আর তা মানুষের পাকস্থলীতে গেলে অল্পক্ষণের মধ্যেই এটা মানুষকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে। তাই এই মাছ খাওয়ার আগে দক্ষতার সঙ্গে মাছের শরীরের বিষাক্ত অংশটি আলাদা করে ফেলতে হবে। 

রিসেন্ট লাইভ খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল

মাশরুমঃ

বিশ্বের অনেক দেশেই মাশরুম একটি জনপ্রিয় এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্য। মাশরুম রক্তচাপ কমাতে, টিউমার কোষের বিরুদ্ধে বহুমূত্র রোগীদের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে , বাত ব্যাথার মত রোগের বিরুদ্ধে উপকারী বলে বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন। তবে প্রকৃতিতে মাশরুমের হাজার রকমের জাত রয়েছে। এবং এগুলোর অনেকগুলো মানবদেহের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।  মাশরুমের নানা জাতের মধ্যে বাংলাদেশ আট থেকে দশটি জাতের চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে পাওয়া যায় মাশরুমের এমন অনেক যায় বিশেষ করে বুনো মাশরুম অনেক সময় শরীরের জন্য বিষাক্ত ও ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাঙের ছাতা বলে পরিচিত বুনো মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক থাকে। যদ লিভার, কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

খেসারি ডালঃ

 বাংলাদেশের মৌসুরো মুগডালের পাশাপাশি অনেকের খাদ্যতালিকায় খেসারির ডাল থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ডালে বোয়া নামের এক প্রকার অ্যামিনো এসিড থাকতে পারে যা বিষাক্ত নিউরো টক্সিন তৈরি করে। এ এসিড নিউরো – ল্যাথরিজম  বা স্নায়ুবিক পঙ্গুত্ব তৈরি করতে পারে। এই রোগের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। এতে করে হাঁটতে গিয়ে অসুবিধা এবং অসহ্য যন্ত্রণা হওয়া কিংবা পা অবশ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। বেশিদিন ধরে খেসারির ডাল খেলে  এ রোগ হতে পারে বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।

আলুঃ

 আলুতে শেকড়ের জন্ম হলে সেখানে গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড নামের এক ধরনের উপাদান তৈরি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন যাবৎ আলু পড়ে থাকলে এই ধরনের উপাদান এর জন্ম হয়। অনেক সময় গাছের পাতায় ও  কাণ্ডে  এই উপাদান থাকে। বিশেষ করে আলুর গায়ে শেকর জন্মালে যে লাল রংয়ের গাদ তৈরি হয়, সেখানে এই উপাদান বেশি থাকে।

বারডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ বলেছেন, গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, এমনকি মানুষ কোমাতেও চলে যেতে পারে। বলা হয়ে থাকে, কেউ কোন ভাবে তিন থেকে ছয় মিলিগ্রাম পরিমাণে এই উপাদান খেয়ে ফেললে মৃত্যু হতে পারে। এছাড়া আলুতে অনেক সময় সবুজ রঙের এক ধরনের পদার্থ দেখা যায়। সেটা হল কারসিনোজেন নামের একটি উপাদান। যা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এই ধরনের আলু খাওয়া উচিত নয়।

টমেটোঃ

 টমেটো গাছের পাতায় ও কান্ডে অ্যালকালাই থাকে, যা পাকস্থলীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কাঁচা টমেটোর ভেতরেই উপাদান থাকে বলে মনে করা হয়। এ কারণে ভালো করে রান্না না করে বেশি কাঁচা টমেটো খাওয়া উচিত নয় বলে মত দেন পুষ্টিবিদেরা। কারণ বেশি পরিমাণে টমেটো খেলে যে কেউ মারাত্নক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। টমেটো গাছের পাতাও কোনভাবে খাওয়া উচিত নয়।

কাজুবাদামঃ

কাজুবাদামের দুটি জাত রয়েছে। একটি মিষ্টি, অপরটি তিতকুটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি পুষ্টিকর খাদ্য হলেও তেতু কাজুবাদাম এর ভেতরে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড নামের একটি বিষাক্ত উপাদান থাকে। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ তার শরীরে হাইড্রোজেন সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। কাঁচা অবস্থায় তেতো কাজু বাদাম খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। 

আপেলঃ

আসলে ঠিক আপেল নয়, আপেলের বিচি এর ভেতর খানিকটা পরিমাণে সায়নাট থাকে, ফলে কারো শরীরের ভেতর যদি বেশি পরিমাণে আপেল বিচি  বা বিচির নির্যাস প্রবেশ করে, তাহলে তা তাকে মেরে ফেলার মতো সায়ানাইড তৈরি করতে পারে। আর সায়নাট  হল একটি মারাত্মক ধরনের বিষ। বিচিসহ আপেলের জুস তৈরি করা হলে, সেই জুসে মারাত্মক বিষ তৈরি হতে পারে। তবে বাদ দিলে আপেলের বাকি অংশে অনেক পুষ্টি রয়েছে।

কাঁচা মধুঃ

 মৌমাছির চাক ভাঙা তাজা মধু সংগ্রহ করতে অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাস্তুরিত করা হয়নি এমন কাঁচা মধু শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ কাঁচা মধুর মধ্যে অনেক বিষাক্ত উপাদান থাকতে পারে। যার কারণে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া এমন মধু খাওয়ার ফলে ঘৌর ঘৌর ভাব আসা, দুর্বল লাগা, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, বমি করার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা কাঁচা মধুর না খেয়ে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষ করে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে সেই মধুর ভেতরে যেন মৌমাছির চাকের বা মৌমাছির কোন অংশ না থাকে। 

শিমের বিচিঃ

 বাংলাদেশে মটরশুটি ও শীমের বিচি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। শিমের বিচি অবশ্য সারাবিশ্বেই একটি জনপ্রিয় খাদ্য। কিন্তু পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার  বলেছেন, মটরশুঁটির ও  সিমের মধ্যে ফাইটোহেমাগ্লুটিনিন নামের পদার্থ থাকে, যা অনেকের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ কারণে তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন যে, রান্নার আগে মটরশুঁটির শিমের বিচি অবশ্যই 15 মিনিট ধরে পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি ফেলে দিয়ে আবারও রান্না করতে হবে। 

কামরাঙ্গাঃ

এটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ফল। সাধারণ মানুষ এটি খেলে কোন সমস্যা নেই। তবে যাদের কিডনির বা স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্যই এই ফলটি ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ আয়েশা সিদ্দিকা।

কচুঃ

 কচু বাংলাদেশ একটি সবজি এবং এর পাতার শাক হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিবিদেরা বলছেন, কচু গাছে যদি ছায়ায় জন্মে বা বড় হয়, তাহলে এর মধ্যে এমন একটি কম্পোনেন্ট তৈরি হয়, যা অনেকের জন্য এলার্জি তৈরি করে। ফলে তাদের চুলকানি হয় গলা ফুলে যায়। এর কারন হল রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট। অনেক সময় এতে করে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। সুতরাং কচু জাতীয় জিনিস খেতে হলে সঙ্গে লেবু খেতে হবে, সেটা কচুর অক্সালেট এর সঙ্গে সমন্বয় এর কাজ করে। 

ডিমঃ

ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, কিন্তু কাঁচা ডিম খাওয়ার , আধা সেদ্ধ ডিম খাওয়ার বা ডিমের একপাস পোচ  করে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য এভাবে ডিম খাওয়া খুবই ক্ষতিকর।

ক্যানড বা প্রসেসড ফুডঃ

 ব্যস্ততার কারণে এখনও অনেকে ক্যানে থাকা খাদ্য বা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খেতে পছন্দ করেন। কারণ এগুলো অনেকটা প্রস্তুত অবস্থায় থাকে বলে সহজেই খাওয়া যায়। কিন্তু এই জাতীয় ক্যানট  জাতীয়  খাদ্য মানসম্পন্ন না হলে বা তৈরি প্রক্রিয়ায় ত্রুটি থাকে তার ডায়রিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদির মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া শুটকি মাছ, শুকনো ফল ইত্যাদি খাবারে অনেক সময় সালফার ব্যবহার করা হয় যা পেটে গেলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular